অরিক , মাত্র আট বছরের এক স্কুলছাত্র। তার পৃথিবী খুব ছোট, কিন্তু হৃদয়ের ভেতর লুকিয়ে আছে এক বিশাল অনুভূতি। সে তার শিক্ষিকা মিস পার্ডিকে ভালোবাসে—শিশুসুলভ নিষ্পাপ প্রেমে ভরা সেই ভালোবাসা।
একদিন অরিক তার পকেট মানি জমিয়ে একটি আংটি কিনে আনে। ছোট্ট হাতের সেই উপহার যেন তার হৃদয়ের সবটুকু আবেগের প্রতীক। সাহস করে সে মিস পার্ডিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। শিশুর সরলতায় ভরা সেই মুহূর্তে হাসি আর আবেগ একসাথে মিশে যায়।
অরিক একদিন বাবা মায়ের সাথে ডিনারের সময় জানতে পারে ছেলেদের বিয়ে করার বয়স মোটামুটি ২০বছর।
এদিকে শীঘ্রই অরিক জানতে পারে, মিস পার্ডির একজন প্রেমিক আছে। তার ছোট্ট মন ভেঙে যায়। ঈর্ষা আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুভূতি তাকে অদ্ভুত এক সিদ্ধান্তে ঠেলে দেয়। সে প্রেমিককে স্কুলের মাঠে ‘মৃত্যুর লড়াই’-এর চ্যালেঞ্জ জানায়। শিশুর চোখে প্রেমিক হয়ে ওঠে প্রতিদ্বন্দ্বী, আর ভালোবাসা যেন যুদ্ধের রূপ নেয়। তারা রাজি হয় পরের দিন খেলারমাঠে বন্দুক যুদ্ধে মুখোমুখি হবে।
অরিক তার বাবার বন্দুক নিয়ে হাজির হয় প্রেমিকের সামনে। বন্দুকটি আসলে খেলনা হলেও দেখতে আসল বন্দুকের মতোই। দৃঢ় কণ্ঠে সে প্রেমিককে হুমকি দেয়—মিস পার্ডিকে যেন সে বিয়ে না করে। নিষ্পাপ আবেগ তখন ভয়ঙ্কর রূপ নেয়, আর দর্শকদের মনে শিহরণ জাগায়।
প্রেমিক কে অরিক কে বলে তোমার বন্দুক কোথায়। প্রেমিক টি বলে ভুলে গেছি আনতে। অরিক বলে এটা তোমার সমস্যা। এই বলে অরিক প্রেমিকের দিকে বন্দুক তাক করে। প্রেমিক বলে এটা খেলনা বন্দুক। অরিক বলে না এটা আমার বাবার। এটা আলমারিতে ছিল। আমি নিয়ে এসেছি। প্রেমিক ঘাবড়ে গিয়ে বলে বন্দুক নিচে নামাও। কিন্তু অরিক তা করে না। অরিক প্রেমিক কে বলে কথা দাও তুমি আমার মিস কে বিয়ে করবে না। প্রেমিক বলে তুমি ছোট তুমি মিস পার্ডির ভরণ পোষনের দ্বায়িত্ব নিতে পারবে না এখন। অনেক নাটকীয়তার পর প্রেমিক স্বীকার করে সে কোন দিনও মিস পার্ডিকে বিয়ের কথা ভাবেনি। এর মাঝে মিস পার্ডি অরিকের পিছনে এসে দাঁড়ায়, সেও অরিক কে বাধা দেবার চেষ্টা করে। কিন্তু অরিক কোন কথা না শুনে বন্দুকের ট্রিগারে চাপ দেয়। কিন্তু সেটা ছিল খেলনা বন্দুক।
এদিকে প্রেমিকের মিস পার্ডিকে বিয়ের কোন প রিকল্পনা ছিল না জেনে মিস পার্ডি পেমিকের দেওয়া আংটি খুলে ফেলে দেয়।
শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত হয়। অরিক বুঝতে পারে, সে এখনো ছোট। মিস পার্ডিকে ভরণপোষণ করার মতো বড় হয়নি। ভালোবাসা মানে শুধু অধিকার নয়, দায়িত্বও আছে। তাই সে নিজেই সিদ্ধান্ত নেয়, এই স্বপ্ন থেকে সরে আসবে।
"দ্য ক্রাশ" আসলে এক শিশুর চোখে দেখা প্রেমের গল্প। নিষ্পাপ আবেগ, কল্পনা আর সরলতায় ভরা এই গল্প কখনো হাসায়, কখনো কাঁদায়, আবার কখনো ভাবায়। শৈশবের সেই অমলিন অনুভূতি দর্শকদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী ছাপ ফেলে যায়।


0 Comments